☾ আল-কোরআন

তসবি সমূহ

আরবি উচ্চারণ, বাংলা অর্থ ও ফজিলত সহ প্রচলিত সকল তসবি

18টি তসবি
01
سُبْحَانَ اللَّهِ
সুবহানাল্লাহ
আল্লাহ সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র
সংখ্যা: ৩৩ বার
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, প্রতিটি তাসবীহ সদকাস্বরূপ। প্রতি ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠকারীর গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও তা সাগরের ফেনার সমান হয়। (সহীহ মুসলিম)
02
الْحَمْدُ لِلَّهِ
আলহামদুলিল্লাহ
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য
সংখ্যা: ৩৩ বার
ফজিলত: নবীজি (সাঃ) বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ মীযানের (আমলের পাল্লার) পাত্র পূর্ণ করে দেয়। এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি বাক্য। (সহীহ মুসলিম)
03
اللَّهُ أَكْبَرُ
আল্লাহু আকবার
আল্লাহ সবচেয়ে মহান
সংখ্যা: ৩৪ বার
ফজিলত: নামাজের প্রতিটি রুকন পরিবর্তনে এই তাকবীর পাঠ করা হয় — এটি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের ঘোষণা এবং দুনিয়ার সকল বিষয়কে ছোট মনে করার শিক্ষা দেয়।
04
لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহ ব্যতীত কোনো (সত্য) উপাস্য নেই
সংখ্যা: যত বেশি সম্ভব
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সর্বোত্তম যিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। এটি ঈমানের মূল কালেমা এবং কিয়ামতের দিন মীযানে সবচেয়ে ভারী আমল। (জামে তিরমিযী)
05
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
আস্তাগফিরুল্লাহ
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি
সংখ্যা: ১০০ বার
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন সত্তর থেকে একশত বারের বেশি ইস্তিগফার পাঠ করতেন। (সহীহ বুখারী) ইস্তিগফারের মাধ্যমে রিযিক ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি পায় এবং বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি মেলে। (সূরা নূহ, আয়াত ১০-১২)
06
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী
আল্লাহ পবিত্র, তাঁরই সকল প্রশংসা
সংখ্যা: ১০০ বার
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে একশত বার এই বাক্য পাঠ করবে তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
07
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
সুবহানাল্লাহিল আযীম
মহান আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত
সংখ্যা: ১০০ বার
ফজিলত: "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী" এবং "সুবহানাল্লাহিল আযীম" — এই দুটি বাক্য রহমানের (আল্লাহর) কাছে অতি প্রিয়, জিহ্বায় হালকা অথচ আমলনামায় খুবই ভারী। (সহীহ বুখারী)
08
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই
সংখ্যা: বেশি বেশি
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এটি জান্নাতের ভান্ডারসমূহের একটি ভান্ডার। কঠিন কাজ বা বিপদের মুহূর্তে এই বাক্য পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
09
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল
আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক
সংখ্যা: বিপদে বেশি বেশি
ফজিলত: ইবরাহীম (আঃ) যখন আগুনে নিক্ষিপ্ত হন, তখন তিনি এই বাক্য পাঠ করেছিলেন। বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও ভয়ের সময় এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা যথেষ্ট হয়ে যান।
10
إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী
সংখ্যা: বিপদে/মৃত্যু সংবাদে
ফজিলত: কোনো বিপদ-মুসিবত বা মৃত্যুর সংবাদে ধৈর্যের সাথে এই কালিমা পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিদানে উত্তম কিছু দান করেন এবং ক্ষতিপূরণ দেন। (সহীহ মুসলিম)
11
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ
হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন
সংখ্যা: বেশি বেশি (দরুদ)
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (সহীহ মুসলিম)
12
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার
চার কালেমা একত্রে (সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার)
সংখ্যা: যেকোনো সময়
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এই চারটি বাক্য আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাণী; এগুলো যে ক্রমেই পাঠ করা হোক না কেন কোনো সমস্যা নেই। (সহীহ মুসলিম)
13
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ
সালামুন কাওলান মিন রব্বির রহীম
শান্তি! (এটাই হবে তাদের প্রতি) পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কথা
সংখ্যা: বেশি বেশি তিলাওয়াত
ফজিলত: এটি সূরা ইয়াসীন-এর ৫৮ নং আয়াত। কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং এই সালাম ও শুভেচ্ছা জানাবেন। এটি পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং জান্নাতের আশা জাগ্রত হয়। (সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৫৮)
14
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি।
সংখ্যা: বেশি বেশি
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন সত্তর থেকে একশত বারেরও বেশি এই ইস্তিগফার পাঠ করতেন। (সহীহ বুখারী)
15
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজীম
আল্লাহ পবিত্র, তাঁরই সকল প্রশংসা; মহান আল্লাহ পবিত্র।
সংখ্যা: দিনে কয়েকবার
ফজিলত: দুটি বাক্য জিহ্বায় হালকা, আমলনামার পাল্লায় ভারী এবং দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
16
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
সংখ্যা: দিনে ১০০ বার
ফজিলত: যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এটি পাঠ করবে, তার জন্য তা ১০টি গোলাম আজাদ করার সমতুল্য সওয়াব হবে, তার জন্য ১০০টি নেকি লেখা হবে এবং ১০০টি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
17
سُبْحَانَ اللَّهِ (٣٣) الْحَمْدُ لِلَّهِ (٣٣) اللَّهُ أَكْبَرُ (٣٤)
সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার), আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার), আল্লাহু আকবার (৩৪ বার)
আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ — এই তিন তাসবিহ একত্রে ১০০ বার পাঠ করা।
সংখ্যা: প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বা নামাজের পর
ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে গৃহস্থালির কষ্টে সাহায্যের জন্য প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এই আমল শিখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এটি একজন খাদেম রাখার চেয়েও উত্তম। এ কারণে একে "তাসবিহে ফাতিমি" বলা হয়। (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
18
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা তাখুযুহু সিনাতুন ওয়া লা নাউম, লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্ব, মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইযনিহ, ইয়ালামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহীতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ, ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা, ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আযীম
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে আছে যে তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে এবং যা তাদের পেছনে আছে। তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত। এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনিই সর্বোচ্চ, মহিমান্বিত।
সংখ্যা: প্রতি ফরজ নামাজের পর
ফজিলত: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, মৃত্যু ছাড়া অন্য কিছুই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বাধা দেবে না। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান) এটি সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৫৫ এবং কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে বিবেচিত।